শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে নতুন পুলিশ কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান: নিরাপদ নগর গঠনে অঙ্গীকার

অপু দাস  (স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী)
রাজশাহী মহানগর পুলিশের ৩৩তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ড. মো. জিল্লুর রহমান। রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ড. জিল্লুর রহমান এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও পুলিশিং পদ্ধতি বিশ্লেষিত হয়েছে।
১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সুদান ও দারফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে স্টেশন কমান্ডারসহ নানা পদে দায়িত্ব পালন করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সংকট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের দুইটি মিশন থেকে পদকও লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি এসএসএফ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‍্যাব, ডিএমপি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিটে কর্মরত থেকে দক্ষতার পরিচয় দেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পেশাগত জ্ঞান সমৃদ্ধ করেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সভায় নতুন পুলিশ কমিশনার জানান—
“জুলাইয়ের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
তিনি বলেন, রাজশাহীর নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। নগরকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য।
ড. জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, রাজশাহীকে একটি আইননির্ভর ও নিরাপদ মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। নাগরিক স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
গণমাধ্যম কর্মীদের পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলেও তিনি জানান।
নতুন কমিশনারের যোগদানে রাজশাহীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব নগরকে আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
শেয়ার করুন