শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নেত্রকোণায় গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’: আচার-অনুষ্ঠান ও নৃত্যে এই সংস্কৃতি উদযাপন

জহিরুল ইসলাম অসীম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি : 
শস্য দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং নতুন ফসলের আশীর্বাদ কামনা করে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুই দিনব্যাপী গারো সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী পাঁচগাঁও সেন্ট পিটার্স চার্চ সাব-প্যারিস গীর্জা মাঠে আয়োজিত এই উৎসব রঙিন নৃত্য, গান, প্রার্থনা ও সংস্কৃতিচর্চায় পরিণত হয় সমতলের এক অনন্য মিলনমেলায়।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকেই শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচারের পালা, নতুন ফসল উৎসর্গ, গারো ভাষার গান পরিবেশনা এবং দর্শকপ্রিয় ‘জুম নাচ’। উৎসবস্থলে নারী-পুরুষেরা উপস্থিত হন নিজস্ব গারো পোশাকে; কারও মাথায় কারুকাজ করা খুতুপে পাগড়ি, কারও মাথায় মোরগের পালকের দমি অলংকার। মাঠজুড়ে গড়ে ওঠে অস্থায়ী দোকান যেখানে পাওয়া যায় হাতে বানানো গারো পোশাক, অলংকার ও ঐতিহ্যবাহী খাবার।
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিলের সভাপতিত্বে উৎসবের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ পিসিসি সংস্থার পরিচালক সিলভেস্টার গমেজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের কথাসাহিত্যিক উপসচিব মঈনুল হাসান, বাংলা একাডেমির পরিচালক ও কবি ড. সরকার আমিন এবং কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মালা আরেং, ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুকুট স্নাল, সুজিত মানখিন, বুলবুল মানখিন ও কপোতি ঘাগ্রা প্রমুখ।
ঐতিহ্য, কৃতজ্ঞতা, নৃত্য ও আচারসমৃদ্ধ এই মহোৎসব আবারও প্রমাণ করেছে সংস্কৃতি শুধুই বিনোদন নয়; মানুষের পরিচয়, ইতিহাস এবং অস্তিত্বের গর্বিত বহিঃপ্রকাশ।
শেয়ার করুন