নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মালবাহী জাহাজ ভাড়া করে এনে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহাজটির মালিক মামলা করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান।
গ্রেফতারকৃত নজরুল ইসলাম নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরবগুলা গ্রামের ইমানুল হকের ছেলে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর জাহাজের মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাকেশ শর্মা বাদী হয়ে সাত জনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার এক কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘটনা বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়। অভিযুক্ত সাতজন আসামি হলেন—জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন, তার সহযোগী মো. জাফর, ইকবাল, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর ও হোসেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শাহাদাতের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে ‘ডাম্ব বার্জ (ডিবি)’ নামে একটি জাহাজ ১ নভেম্বর ভাড়া করে আনা হয়। এজন্য সাত লাখ ২০ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তি হয়। পরবর্তী সময়ে শাহাদাতের নেতৃত্বে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়া ও হোসেনসহ ১০–১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে ‘এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ডে’ জাহাজটি কেটে স্টিলের প্লেট বিক্রি করে ফেলে।
গত রবিবার সকালে মোবাইল ফোনে এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে জাহাজ কাটার খবর পান মালিক রাকেশ শর্মা। খবর পেয়ে ওই দিন রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজ কেটে ফেলার সত্যতা দেখেন এবং মামলা দায়ের করেন। মামলায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে।
জাহাজের মালিক রাকেশ শর্মা জানান, জিনিসপত্র পরিবহনের জন্য জাফর নামে একজন এক মাসের চুক্তিতে জাহাজ ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে মিলে সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতার ছেলে শাহাদাত জাহাজটি নিজের শিপইয়ার্ডে নিয়ে কেটে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি নিয়ে শাহাদাতের বাবা রফিকুল ইসলাম ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও পরে টালবাহানা শুরু করেন। এজন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।





