হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগীয় ধাঁচের এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। কন্যার বিয়েতে স্বল্প সময়ের জন্য মাইক বাজানোর অভিযোগে পরিবারের সদস্যদের ওপর বেত্রাঘাত করা হয় এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় কনের স্বামীর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশাও আটকে রাখা হয়েছে, ফলে পুরো পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে পরিবারের কন্যার বিয়ে উপলক্ষে অল্প সময়ের জন্য মাইক বাজানো হলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এর ব্যাখ্যা চাইতে গিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পরে এলাকায় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশ ডেকে পরিবারের ওপর বেত্রাঘাতের রায় দেন।
কন্যার বাবা শাহজাহান জানান, “আমি গরিব মানুষ। মেয়ের বিয়েতে সামান্য আনন্দ করতে মাইক বাজালে আফসার, ছারোয়ার ও মালেক আমাদের সবাইকে মারধর করে। পরে সালিশ ডেকে আলাউদ্দিন মাঝি, তছলিম, আনোয়ার মাঝি, সেন্টু ও রফিকসহ কয়েকজন ১৫ বেতের শাস্তি এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয়। আমরা বারবার ক্ষমা চাইলেও তারা শোনেনি। জরিমানা দিতে না পারায় আফসার আমার জামাতার অটোরিকশা আটকে রেখেছে।”
সালিশে উপস্থিত এক সালিশদার জানান, ঘটনাস্থলে হট্টগোলের সময় আফসারের ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায় বলে দাবি উঠেছিল, যদিও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, নারীদের বেত্রাঘাত করা হয়নি, তবে পুরুষদের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে এবং শাহজাহানকে ঘরের মুরুব্বি হিসেবে নারীদের শাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সালিশ সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশের আইনে শুধুমাত্র আদালতেরই ফৌজদারি অপরাধের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাত বা শারীরিক শাস্তি দেওয়ার কোন বৈধতা নেই। তারা বলেন, একটি পরিবারের ওপর এভাবে নির্যাতন চালানো এবং আর্থিক ক্ষতি করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।
এ বিষয়ে সাগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বলেন, “বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলি। তারা তখন আর কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





