জুম্মান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের চাঁনপাড়ায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ধান লুটের যে অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে—তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন মৃত আজিজ ডিলারের পরিবার। তাদের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও পূর্ববর্তী ঘটনার তথ্য উপেক্ষা করে একপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো সংবাদ পরিবেশন করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চাঁনপাড়ার আজিজ ডিলার জীবদ্দশায় উক্ত জমিটি প্রতিবেশী আব্দুল লতিফকে বর্গা হিসেবে ব্যবহার করতে দেন। আজিজ ডিলারের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও ছয় ছেলে–তিন মেয়েই জমিটির আইনগত মালিক। সরকারের ঘর থেকে জমির নিয়মিত খাজনা তারাই দিয়ে আসছেন। জমির কাগজপত্র সরকারি অফিস থেকে উত্তোলনের সময় পরিবারটি জমির পুরো তথ্য-উপাত্ত হাতে পায় এবং তখনই তারা জানতে পারে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের অজান্তে ভোগ করছেন আব্দুল লতিফ।
পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আব্দুল লতিফের ছেলে রমজান ওই জমিকে নিজের দখলে রাখতে নানা সময় অপপ্রচার, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন এবং তার ছত্রছায়ায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জমির মালিক আজিজ ডিলারের পরিবার জানায়, বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের মাধ্যমে জমিটি তাদের দখলে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারাও জারি রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন—এই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় প্রকৃত মালিকানা গোপন করে এবং নিষেধাজ্ঞাকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে লতিফ পক্ষ সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করেছে।
তালেব মন্টু, মোমেনা খাতুন, সুমন আহমেদ রেন্টু, আবু মোতালেব মিন্টু, পিন্টু পারভেজ, আবু সাইদ ও তাদের মা—যারা আজিজ ডিলারের সন্তান—তারা জানান, যেসব নাম সংবাদে ‘ধান লুটকারী চক্র’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, তারা আসলে জমির বৈধ মালিক। তারা অভিযোগ করেন, তথ্য বিকৃতি করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্প্রতিক মূল মালিক আজিজ ডিলারের পরিবার তাদের দাবি দীর্ঘদিন পর জমি ফেরার পাওয়ার পর তাদের পিতা সম্পত্তি দখলের জন্য তারা আবারও অপপ্রচার ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন চালাচ্ছে । সেই জেরে বর্তমানে যার জন্য খোলা মাঠেই কাটা ধান পড়ে আছে। আদালতের নির্দেশে জমিটি প্রকৃত মালিক আজিজ ডিলারের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও উত্তেজনার কারণে বর্তমানে কেউ ওই ধানে হাত দিতে সাহস পাচ্ছে না।
আদালত, যশোর কোতোয়ালি থানা, স্থানীয় ফাড়ি পুলিশ ও ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা যৌথভাবে জমিটি আজিজ ডিলারের উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—জমি ও ফসলের মালিকানায় আদালতের আদেশই চূড়ান্ত, এবং তা যে কোনোভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের কিছু নেতা পুনরায় এ জমিতে নজর দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে—তারা পূর্বে অবৈধভাবে জমি ব্যবহারকারী পক্ষকে উসকে দিচ্ছেন এবং প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। এতে করে আদালতের রায়কে অমান্য করে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
জমির প্রকৃত মালিক আজিজ ডিলারের পরিবার জানিয়েছে—জমিটি তাদের দখলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আদালতের আদেশকে উপহাস করে অপতৎপরতায় লিপ্ত। এর ফলে মাঠে পড়ে থাকা কাটা ধান তারা তুলতে পারছেন না, যা তাদের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয়রা শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সকল পক্ষকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।





