অপু দাস ( স্টাফ রিপোর্টার ) :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া ইসলাম (২৪) নিজের জীবনের ইতি টানলেন এক মর্মস্পর্শী চিরকুট রেখে। বুধবার সকালে রাজশাহীর বিনোদপুরের মির্জাপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে তাকে ডাকতে গিয়ে দেখা যায়, সোনিয়া ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হলে তাদের সহায়তায় মরদেহ নামানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে মৃত্যুর কারণ না জানালেও সোনিয়া লিখেছেন— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, সবাই ভালো থাকবেন।” এছাড়াও তিনি তার মরদেহের পোস্টমর্টেম না করার অনুরোধ জানিয়ে গেছেন।
সোনিয়ার ঘরে রঙিন কাগজে লেখা চারটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার যেন পোস্টমর্টেম না করা হয়। আম্মু, আব্বু, ধ্রুবতারা আমি খুব ভালোবাসি। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আল্লাহকে বলো আমাকে মাফ করে দিতে।’
আরেকটি চিরকুটে লেখা, ‘আমি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি মা। কবরের আযাব কীভাবে সহ্য করব। আব্বুকে বলবা আমার কবরের পাশে থাকতে। আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন।’
অন্য একটিতে লেখা, ‘আব্বু আম্মু তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। তোমাদের জন্য আমি কিচ্ছু করতে পারলাম না। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল মা। আমি কিচ্ছু পারলাম না। আব্বু আম্মু শুধু দোয়া করো যেন আমাকে মাফ করে দেন।’
আরেকটিতে লেখা, ‘আমি খুব করে বাঁচতে চেয়েছি, বিশ্বাস করো তোমরা। কিন্তু নিজের সাথে যুদ্ধ করে আর পেরে উঠলাম না।’
সোনিয়ার সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন খুব হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী। গতকালও পরীক্ষার হলে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তাই এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, তা কেউই বুঝে উঠতে পারছেন না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি মর্মান্তিক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে মৃত্যুর কোনো সঠিক কারণ আমরা জানতে পারিনি। পুলিশও আমাদের কোনো কিছু জানাতে পারেনি। হয়তো পরে আমরা জানতে পারবো।’
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। কোনো মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত হতাশা থেকে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পরিবারের একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর সোনিয়ার বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন। আর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী ও শিক্ষকরা বলছেন, “সবসময় প্রাণোচ্ছল সোনিয়া এমনভাবে চলে যাবে— এটা কেউই ভাবতে পারেনি।”