সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ দৌরাত্ম্য ‘আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা’ জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

সিলেট প্রতিনিধি :

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় স্কুল-কলেজের আশপাশে একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মাদক সেবন, টিকটক ভিডিও তৈরি, অনলাইন জুয়া এবং বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে এসব গ্যাং নিয়মিতভাবে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সংঘবদ্ধ এই কিশোরেরা মোটরসাইকেল নিয়ে জটলা সৃষ্টি করে এবং ছাত্রীদের লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে। সম্প্রতি হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন ছাত্রী সরাসরি এই গ্যাংয়ের টার্গেটে পরিণত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরেরা ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট করছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন ভিডিও প্রকাশের পর জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

​এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। বাবুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান জানান, জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সন্দেহজনক কিশোররা হট্টগোল সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি এই কিশোরদের মধ্যে এক সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে, শিক্ষাবিদরা এই নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য পরিবার, সমাজ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার অভাবকে দায়ী করছেন। গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সন্তানদের সঠিক পথে ফেরাতে এখনই শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।


​এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানি রোধে থানা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে বলে আশ্বাস দেন। ​সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রনয় বিশ্বাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

​স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকাসক্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে উৎসাহিত হয়ে কিশোরদের এই ভয়ংকর পথে পা বাড়ানো পুরো এলাকার জন্য উদ্বেগজনক। প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সচেতন মহল একযোগে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ার করুন