যশোর প্রতিনিধি :
যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া ক্লাস্টারের খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়রা আক্তার নিশি’র বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, খারাপ ব্যবহার ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কাগজে কলমে মোট ৫৯ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জন।
এদের পাঠদানের জন্য ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। বিদ্যালয়টি দুই শিফটে পরিচালিত হয়। শিক্ষকের সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। স্থানীয়দের দাবি, সহকারী শিক্ষক হুমায়রা আক্তার নিশির খারাপ আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে গত এক মাসে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে।
এই তিন শিক্ষার্থী হলেন শিশু শ্রেণির ছাত্রী সাহিদা খাতুন, শিশু শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা খাতুন (মা মমতাজ পারভীন) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাহিদুল ইসলাম (মা মারুফা বেগম)। অভিভাবকেরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন, এবং সামান্য কারণে অভিভাবকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান।
ভুক্তভোগী মমতাজ পারভীন বলেন, “একদিন আমার মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে কথা বলতে গেলে ওই শিক্ষক আমাকে অফিস রুমেই হাত তোলেন। আমি প্রতিবাদ করলে উনি চিৎকার করে হুমকি দেন। পরে আমার স্বামী বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ওই শিক্ষিকা তার চাচা-মামাকে দিয়ে স্থানীয় গাজির বাজারে আমাদের ডেকে হুমকি দেয়।”
আরেক অভিভাবক মারুফা বেগম বলেন, “স্কুলে সন্তান পাঠিয়ে ভয় লাগে। ওই শিক্ষিকা এমনভাবে বাচ্চাদের সঙ্গে ব্যবহার করেন যে, ওরা এখন স্কুলের নাম শুনলেই কাঁদে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হুমায়রা আক্তার নিশি স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। তার আত্মীয়স্বজনেরা প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগের বিষয়গুলো গোপন রাখার চেষ্টা করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ মনা বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছি।” তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের আত্মীয় হওয়ায় তিনিও ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করছেন।
ভেকুটিয়া ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, “আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগ ওঠার পর এক মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সহকারী শিক্ষক নিশির আচরণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অসন্তুষ্ট। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে বিদ্যালয় থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাবে, যা শিক্ষার মান ও উপস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





