সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টিকা নিন, সুস্থ থাকুন: ভোলায় টাইফয়েড প্রতিরোধের নতুন অধ্যায়

0-0x0-0-0#

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি :

ভোলার তজুমদ্দিনে “টাইফয়েড টিকাদান বিষয়ক দিনব্যাপী কনসালটেশন ওয়ার্কশপ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং ভোলা জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর ২০২৫) সকালে তজুমদ্দিন প্রেসক্লাব মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সচেতনতা বৃদ্ধির এক উৎসবে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ. মুমেন বলেন, “শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, সমাজের সচেতন মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসাথে কাজ করলে টাইফয়েডসহ নানা সংক্রামক রোগ নির্মূল করা সম্ভব।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুল ইসলাম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডাঃ ডালিয়া ইয়াসমিন, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান, এবং তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। সভাপতিত্ব করেন জেলা তথ্য অফিসার মোঃ শাহ আব্দুর রহিম নুরন্নবী।

এ সময় প্রেসক্লাব আহ্বায়ক সাইদুল হক মুরাদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সাদী, তজুমদ্দিনের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বক্তারা গুরুত্ব দিয়ে বলেন, টাইফয়েড একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সাধারণ মানুষকে এই রোগের ঝুঁকি ও সঠিক প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।

সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “টাইফয়েড টিকা শিশুদের জন্য অপরিহার্য। সঠিক বয়সে টিকা নিলে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।” দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে টিকাদান প্রচারণা জোরদার করার নানা পরামর্শ ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে টিকাদান কর্মসূচির প্রচার কৌশল, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

কর্মশালার সমাপনীতে উপস্থিত সবাই টাইফয়েড প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই কর্মশালা প্রমাণ করেছে, সচেতন সমাজ গড়ে তোলা এবং রোগ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। টাইফয়েড টিকার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এখন জাতীয় অগ্রাধিকার।

শেয়ার করুন