এমন গুঞ্জন নির্ভর হয়েই ব্যাংকগুলোর শেয়ারে দফায় দফায় অস্থিরতা দেখা যায়, যা পুরো পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একীভূতকরণের আলোচনা যখন শুরু হয়, তখন শেয়ারবাজারে গুঞ্জন ওঠে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই ব্যাংকগুলোর অভিহিত মূল্যে নতুন ব্যাংকের শেয়ার পাবেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সেই গুঞ্জন ফিকে হয়ে নতুন করে প্রচার হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই পাঁচ ব্যাংকের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে নতুন ব্যাংকের শেয়ার পাবেন। তবে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গুঞ্জন ওঠে, যেহেতু ব্যাংকগুলোর সম্পদমূল্য ঋণাত্মক, সেহেতু একীভূত প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছুই পাবেন না।
দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দফায় দফায় এমন গুঞ্জন পাল্টালেও সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। তবে গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজার খুবই স্পর্শকাতর একটি জায়গা। এখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়কে কেন্দ্র করে পুরো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বিবেচনায় ওই পাঁচ ব্যাংকের গুরুত্বও অনেক। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা নেই। এর ফলে কয়েকদিন পর পর ভিন্ন ভিন্ন গুজবে ওই শেয়ারগুলো পুরো বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। একীভূত ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করা উচিত। অন্যথায় চলমান অস্থিরতায় ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর শূন্য কিংবা এক টাকার নিচে নেমে আসতে পারে। তখন সরকার সেই বাজারদরের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দিলেও তাতে তাদের বড় অঙ্কের লোকসানের বোঝা টানতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত যেটুকু অগ্রগতি তাতে মনে হচ্ছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো প্যাকেজ নেই। তবে সিদ্ধান্ত যেটিই হোক, সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া উচিত। আর যদি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো প্যাকেজ না রাখা হয়, সেটিও ন্যায়সংগত হবে না। কেননা, সাধারণ বিনিয়োগকারী তো আর ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
আমানতকারীদের স্বার্থ প্রথমে দেখে তারপরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি দেখা উচিত। এমনটি না হলে পুরো শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেশি তলানিতে নেমে যাবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক একীভূতকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। যেহেতু একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো সবদিক বিবেচনায় ঋণাত্মক রয়েছে, সেহেতু এত অল্প সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি স্পষ্ট করা কঠিন।
তবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগে অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি নিয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অন্যদিকে, বিএসইসি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি স্পষ্ট করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে ব্যাংকগুলোর দুরবস্থার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই দায়ী নন জানিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষায় কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।





