ইয়াকুব আলী তালুকদার, (স্টাফ রিপোর্টার):
মানুষের মানসিকতা ভিন্ন ভিন্ন এটি আল্লাহর সৃষ্টির বহুমাত্রিকতারই প্রকাশ। পৃথিবীতে প্রায় আট বিলিয়ন মানুষ আছে; কারও মুখাবয়ব, উচ্চারণ, প্রতিভা, মনোভাব, চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ কারও সঙ্গে মেলে না। এমনকি একই বাবা-মায়ের যমজ সন্তানও মানসিকভাবে একরকম নয়। পৃথিবীতে বিলিয়ন মানুষ বাস করছে, কিন্তু কারও আঙুলের ছাপ অন্য কারও সঙ্গে মেলে না, এটাই সৃষ্টির বিশেষত্ব।
আমার পছন্দ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অন্য কারও মতো নাও হতে পারে। আল্লাহ চেয়েছেন বিশৃঙ্খলা থেকে ঐক্য, বৈষম্য থেকে সাম্য, অশৃঙ্খলা থেকে শৃঙ্খলা। তাই আমাদের ন্যূনতম সহনশীলতা থাকা জরুরি, অন্যের মতামত ও মানসিকতাকে সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। না হলে পৃথিবী ভরে যাবে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতে, আর কারও জন্য কাজ করার জায়গা থাকবে না।
প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট স্থান থাকা উচিত, যাতে কেউ ভয়, জোরজবরদস্তি, প্রলোভন বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নিজের মূল্যবোধ চর্চা, লালন ও বিকাশ করতে পারে। সমাজে এমন স্বাধীনতা থাকতে হবে, যাতে ব্যক্তি ও সমষ্টিগত উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়। অন্যথায় সমাজ নিস্তেজ, স্থবির ও প্রাণহীন হয়ে পড়বে একদম থমকে থাকা পানির মতো। জীবনও তখন থেমে যাবে, আর তা মৃতদেহের মতো অর্থহীন হয়ে উঠবে।
আল্লাহ সর্বদা কর্মমুখর, তাই তিনি চান মানুষও সর্বদা কর্মে নিয়োজিত থাকুক। মহাবিশ্ব আলোর বেগের চেয়েও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে, আর মানুষ যেহেতু তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টি, তাই নিষ্ক্রিয় থাকা আল্লাহর ইচ্ছার পরিপন্থী। সুতরাং, যা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি তা আবিষ্কার করো, যা উদ্ভাবিত হয়নি তা উদ্ভাবন করো, ফেরেশতাদের সীমা অতিক্রম করো কারণ মানুষের মর্যাদা ফেরেশতাদের চেয়েও উচ্চ।
সবসময় নিজেকে কর্মে নিয়োজিত রাখো, স্বর্গের সীমা ছাড়িয়ে যাও এবং আল্লাহর ইচ্ছাকে পূর্ণ করো। ভিন্ন মানসিকতার মানুষের মধ্যে বিভাজন দূর করো, যতটা সম্ভব তাদের একত্রে আনো। হাত ধরে এগিয়ে চলো। অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নাও, অত্যাচারীদের দমন করো। এটাই সাধারণ আদর্শ এটি কোনো ধর্মীয় রঙে রাঙানো নয়, এটি মানবিক আদর্শ, সার্বজনীন আদর্শ।
নিজেকে ধর্মীয় সীমা থেকে উত্তীর্ণ করে মানবতার সীমায় প্রবেশ করো। সেখানে যাও, যেখানে মানুষ নিপীড়িত। মানবজাতিকে নৈতিকতার সীমানার ভেতরে ফিরিয়ে আনো। নিজেকে প্রজ্জ্বলিত করো ইব্রাহিম ট্রাওরের মতো আফ্রিকার বুর্কিনা ফাসোর তরুণ প্রেসিডেন্ট, যিনি আফ্রিকার নতুন আশার প্রতীক। তিনি শুধু প্রেসিডেন্ট নন, বরং পশ্চিমা আধিপত্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক শক্তি, ঐক্য, আশা ও মানবতার প্রতীক।





