সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মাধ্যমে জাতি দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে : শফিকুর রহমান 

Oplus_131072
শরিফুল ইসলাম (বিশেষ প্রতিনিধি) :
গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব সেনা কর্মকর্তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে জাতি দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে !” বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১২ অক্টোবর) তার নিজস্ব কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন । সেনাবাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত থাকতে চান।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এই বাহিনীর কতিপয় সদস্য দেশের বিদ্যমান আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন।  বিচারাধীন সেনা কর্মকর্তাদের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্ররোচনায় প্রতিপক্ষ নিধনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অন্ধ সহযোগী ছিলেন। ফলে দেশে গুম-খুনের একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, যা একটি জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যেজনক । আক্ষেপের সুরকে বিভাজিত করে তিনি আরো বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া অপরাধ তবে সুনির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত হতে দেওয়া যায় না। অপরাধের দায় কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপরই বর্তাবে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিচারপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
আমরা আশা করি, কারও ওপর কোনো অবিচার চাপিয়ে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হবেন। এতে যেমন অতীতের দায় মুছে যাবে, তেমনি ভবিষ্যতে কেউ নিজের পেশা বা পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পরিণতিতে দীর্ঘমেয়াদে জাতি উপকৃত হবে। উল্লেখ্য, জিয়া, এরশাদ ও মেজর ডালিমদের পরবর্তী সময়ে সদ্য পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার আমলেও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তা। আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে গত বছর ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগীতা করায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তোলা হয় । সম্প্রতি বিচারের জন্য তাদেরকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জামায়াতের আমীর সেনাবাহিনীর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই এমন মন্তব্য করেছেন।
শেয়ার করুন