দৈনিক বাংলার চোখ :
ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি এখন অস্তিত্ব সংকটে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সময়ের ছাপকে জয় করে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষের ঐতিহাসিক এই স্থাপনা। চাকচিক্যময় দেওয়াল, পরিপাটি সামনের অংশ আর বাহ্যিক সাজসজ্জায় ফুটে ওঠে ঐতিহ্যের আভিজাত্য। কিন্তু স্থাপনাটির পেছনের দিকে পা বাড়ালেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
সেখানে দেওয়ালে ক্ষয়ের দাগ, পলেস্তারা খসে পড়া, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছাদে ফাটল, দেওয়ালে ধস, জানালায় ভাঙা কাঠ এমনকি প্রায় প্রতিটি কক্ষেই গাছের শিকড় প্রবেশ করেছে। ছাদ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা গাছ আর ঝুলে থাকা শিকড় যেন দীর্ঘদিনের অযত্নের চিহ্ন নীরবে বলে দেয় ভিন্ন এক গল্প। প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলা সদরের খানিক পশ্চিমে শীতলক্ষা নদীর পূর্ব তীরে মুড়াপাড়া এলাকায় সবুজ-শ্যামল পরিবেশে অবস্থিত এই জমিদারবাড়ি। বলা হয়ে থাকে, প্রাচীনকালে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ার জমিদার বাড়িটিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে রূপগঞ্জের ইতিহাস, কৃষ্টি, সভ্যতা ও এখানকার জনবসতি। বংশ পরম্পরায় বিভিন্ন সময় ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেন কয়েকজন জমিদার। এর গোড়পত্তন করেন বাবু রামরতন ব্যানার্জি। এরপর তার কয়েকজন বংশধর প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেন বলে জানা গেছে।
১৮৮৯ সালে প্রায় ৬২ বিঘা জমির ওপর বাবু রামরতন ব্যানার্জি প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়িটি বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বাবু রামরতন ব্যানার্জির বংশধরেরা মূল ভবনের সামনের ও পেছনের অংশ সম্প্রসারণ করেন। ১৭৯ বছর আগে নির্মিত বিশাল দোতলা জমিদার বাড়িটিতে আছে কারুকার্য মণ্ডিত ৯৫টি কক্ষ। যেখানে মন্দির, ভান্ডার, কাছারি ঘর, অতিথিশালা, বৈঠকখানা, আস্তাবল, দৃষ্টিনন্দন নাচের ঘর এবং সামনে-পেছনে দুটি পুকুর রয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, ‘মুড়াপাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজটি রূপগঞ্জ তথা বাংলাদেশের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব আইন ১৯৬৮ মোতাবেক তাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলেজ কতৃপক্ষও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি খুব শিগগির প্রাচীন নির্মাণশৈলীকে গুরুত্ব দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব।’




