বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল। ডান পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-টু ইনজুরিতে পড়েছেন নেইমার। আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলো মিস করবেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
বৃহস্পতিবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার এই খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নেইমার গতকাল গ্রানজা কোমারিতে যোগ দিয়েছেন। সব পরীক্ষা শেষে এমআরআই স্ক্যানে কাফে গ্রেড-টু ইনজুরি ধরা পড়েছে, শুধু ফোলা নয়। তিনি আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন।’ তিনি দল থেকে বাদ পড়বেন কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলেননি লাসমার।
নেইমার মঙ্গলবার দলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার প্রথম অনুশীলনেই অংশ নিতে পারেননি। ডান পায়ে ফোলা থাকায় তাকে তেরেসোপোলিসের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানেই স্ক্যান করা হয়।
ইনজুরির মাত্রা আগে যা বলা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি। দল ঘোষণার আগে সান্তোসের চিকিৎসক রদ্রিগো জোগাইব জানিয়েছিলেন, সমস্যাটা শুধু ফোলা এবং নেইমার মঙ্গলবার থেকে অনুশীলন শুরু করতে পারবেন। কিন্তু স্ক্যানে দেখা গেছে মাসলের আঁশে আংশিক ছেঁড়া রয়েছে। এটি একটি মাঝারি মাত্রার ইনজুরি, যার জন্য বিশ্রাম ও পুনর্বাসন দরকার।
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ইনজুরিতে রোববার মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং এরপর ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করবেন। ১৩ জুন নিউজার্সিতে আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তার খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ব্রাজিল গ্রুপ সি-তে রয়েছে। একই গ্রুপে আছে হাইতি ও স্কটল্যান্ডও।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমনিতেই রোববারের ম্যাচের আগে সমস্যায় পড়েছিলেন। গত সপ্তাহান্তে আর্সেনাল ও পিএসজির মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে খেলায় ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও মার্কুইনহোস এবং ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ওই ম্যাচে নেই।
গত সপ্তাহে নেইমারকে দলে ফেরানোয় সবার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কারণ আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে তাকে পরিকল্পনায় রাখেননি। ১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড বছরের পর বছর ইনজুরিতে ভুগেছেন। সান্তোসে ফেরার পরও তেমন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারেননি।
মে মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছিলেন, নেইমার বিশেষ কোনো সুবিধা পাবেন না। দলে জায়গা নির্ভর করবে শুধু ফিটনেস ও ফর্মের ওপর, আবেগের ওপর নয়।
এখন সেই নেইমারকে ছাড়াই বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।




