বর্তমান প্রজন্ম নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের জন্য শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; বরং এর সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় অপরিহার্য।
শনিবার (২ মে) বিকালে রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেভ দ্য উম্মাহ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়ার সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মাসরুর আহমদের পরিচালনায় এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন- দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের প্রধান মুফতি সালমান আহমদ, মারকাজুল উলুম লন্ডনের প্রিন্সিপাল মুফতি শোয়াইব আহমদ, কবি ও কলামিস্ট রেজাউল করিম রনি, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি তানজিল আমির, মুফতি সাইফুদ্দীন ইউসুফ, মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসউদ খান ও মাওলানা আহমদ মুসা প্রমুখ।
অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে—প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত—ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, মানবিকতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ জাগ্রত করে, যা একটি আদর্শ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া বলেন,ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম মাদক, অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে এবং দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা কারিকুলামে ধর্ম শিক্ষাকে সংকুচিত ‘ইসলাম শিক্ষা’বিষয়টি ঐচ্ছিক বা চতুর্থ বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে। আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ঘরে ঘরে পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেওয়া সম্ভব হলে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে এবং সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এটি নতুন কোনো দাবি নয়। গত নির্বাচনে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আলেমরা বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছিল। তাই দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা শিক্ষানীতিতে যথাযথ পরিবর্তন এনে প্রতিটি শিক্ষাস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।




