শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর মহাসড়কে যেন এক মৃত্যু ফাঁদ, ফুটওভার ব্রিজের দাবি

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এ স্থানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইকোনিট টেক্সটাইলসহ আশপাশের অন্তত ৪ থেকে ৫টি শিল্পকারখানার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই মহাসড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া স্কুল-কলেজগামী শতাধিক শিক্ষার্থীও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় শিফট পরিবর্তনের সময় মহাসড়কে শ্রমিকদের ঢল নামলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়কের ডিভাইডার টপকে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। আতঙ্কে অনেক নারী শ্রমিক বুক চেপে ধরে রাস্তা পার হচ্ছেন। কেউ গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে দৌড়াচ্ছেন, আবার কেউ ডিভাইডার টপকে নিচে লাফিয়ে নামছেন।

পাশেই দায়িত্ব পালনরত বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলেও দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে বহু শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন। কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করে হারিয়েছেন কর্মক্ষমতা।

ট্রাফিক দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, “আমরা সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি, তারপরও সব সামাল দেওয়া যায় না। হঠাৎ করেই মানুষ দৌড়ে রাস্তা পার হয়। একটা ফুটওভার ব্রিজ হলে আমাদের চাপও কমত, মানুষও নিরাপদে চলাচল করতে পারত।”

ইকোনিট টেক্সটাইলের অপারেটর শাহিনুর বেগম বলেন, “ভোরে বাসা থেকে বের হই, জানি না সন্ধ্যায় ফিরতে পারব কিনা। কয়েক মাস আগে আমার সহকর্মী রহিমা আপা বাসের ধাক্কায় মারা গেছেন। তার দুইটা ছোট বাচ্চা এখন এতিম। একটা ব্রিজের জন্য আর কত লাশ লাগবে?”

কারখানার সুপারভাইজার মো. কামাল হোসেন বলেন, “শুধু ইকোনিট টেক্সটাইলেই প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আশপাশের সব কারখানা মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এই পয়েন্ট দিয়ে রাস্তা পার হয়। নিকটতম ফুটওভার ব্রিজ চন্দ্রা ত্রিমোড়ে, যা প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। তাই কেউ এতদূর ঘুরে যায় না।”

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হুসাইন বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের সামনে শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। শ্রমিকরা সম্মিলিতভাবে আবেদন করলে আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) ডিও লেটার দেব। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে শ্রমিকদের স্বার্থে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে পারে।”

এদিকে কালিয়াকৈর গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু না হলে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হবে। আমরা আর লাশের মিছিল দেখতে চাই না।

শেয়ার করুন