ফরিদপুরে সাত বছরের একটি কন্যাশিশুকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদরের বাখুন্ডা রেলস্টেশনের পাশের কলাবাগান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করেছে ইজিবাইকচালক ইসরাফিল মৃধা (২৪)।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চকলেটের লোভ দেখিয়ে গত ২৪ এপ্রিল শিশুটিকে বাখুন্ডা আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি পরিত্যক্ত বসতঘরে নিয়ে যান ইসরাফিল। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। শিশুটি মাকে সব ঘটনা বলে দেবে জানালে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশটি পাশের বাড়ির শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন। এদিকে সেপটিক ট্যাংক থেকে গন্ধ বের হতে দেখে বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম গত ২৮ এপ্রিল লাশটি উদ্ধার করে তাঁর দুই ছেলের সহায়তায় ড্রামে ভরে বাড়ির অদূরে বাখুন্ডা রেলস্টেশন–সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল লাশটি উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ইসরাফিল মৃধা (২৪), নাছিমা বেগম (৪৫) ও তাঁর ছেলে শেখ আমিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আলামত হিসেবে শিশুটির প্যান্ট, স্যান্ডেল ও লাশ বহনের প্লাস্টিকের ড্রাম ও একটি কম্বল জব্দ করা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ইসরাফিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলে তাঁর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।




