ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১২ ধরনের পরিবেশ দূষণের মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম, যা অন্তত ৩০টি কঠিন রোগের কারণ। ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে।
রাজধানীর এই অসহনীয় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডের ৯টি স্কুলে মাসব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ’ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শব্দের মাত্রা ১২০ থেকে ১৩২ ডেসিবল পর্যন্ত ওঠানামা করছে, যা স্বাভাবিক সহনসীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি। যান্ত্রিক যানের অহেতুক হর্ন, ইট ভাঙার মেশিন, জেনারেটর এবং উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় চালকদের অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ শুধু শ্রবণশক্তিই কেড়ে নিচ্ছে না; বরং এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা এবং খিটখিটে মেজাজের মতো শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, শিশু, হাসপাতালের রোগী এবং ট্রাফিক পুলিশ। অতিমাত্রায় শব্দ শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। নতুন এই বিধিমালায় এলাকাভিত্তিক শব্দের মাত্রা নির্ধারণ, হর্ন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনার জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে সেখানে মানমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ শব্দ হচ্ছে।
ক্যাম্পেইন থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫-এর কঠোর বাস্তবায়ন; চালকদের লাইসেন্স প্রদানের সময় শব্দদূষণ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান: যত্রতত্র হর্ন বাজানো রোধে মোড়ে মোড়ে ‘নো হর্ন’ সাইন স্থাপন এবং ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক উচ্চহারে জরিমানা আদায়; হাইড্রোলিক হর্ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ এবং মাইক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ; স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সচেতনতা বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধি।





