ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনের সফরে ইসরাইলে পৌঁছেছেন। উভয় দেশই এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়ছে।
২০১৭ সালে মোদি ভারতের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরাইল সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি এবং ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফা-এর সমুদ্রসৈকতে খালি পায়ে হাঁটেন।
প্রায় নয় বছর পরও দুজনই যার যার দেশের ক্ষমতায় আছেন। নিজেদের বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করা এই দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এমন সময়ে এই আলোচনা হচ্ছে যখন ইসরাইল তার সামরিক রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।
একজন ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এই সফর বহু ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
মোদি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট-এ বক্তব্য রাখবেন এবং হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ Yad Vashem-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের কাছে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি
মোদির এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন একটি বিমানবাহী রণতরী ভূমধ্যসাগরে পাঠিয়েছে, যা ইসরাইলের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইয়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এসব দেশে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন এবং প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান।
ভারতের থিংক-ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাবির তানেজা বলেন, নয়াদিল্লি এই অঞ্চলে কোনো সংঘাত চায় না। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এ ধরনের বার্তা অতীতেও দেওয়া হয়েছে এবং এই সফরেও দেওয়া হবে।’
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই সফরে আঞ্চলিক বিষয়াবলি নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু ভারতকে ভবিষ্যতের ‘সমমনা দেশগুলোর অক্ষ’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা বড় ফল বয়ে আনতে পারে এবং অবশ্যই আমাদের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’
তানেজা আরও বলেন, ভারত ইসরাইলি সামরিক সরঞ্জাম কিনতে আগ্রহী হলেও, আন্তর্জাতিক বিষয়ে দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ নীতির কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে যোগ দিতে নয়াদিল্লি দ্বিধায় থাকবে।




