ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী। সীমিত ছুটি, দূরপাল্লার যাতায়াতের ভোগান্তি, নির্বাচনের পরপরই সেমিস্টার পরীক্ষা এবং অতিরিক্ত ভাড়া–সংকট—এসব কারণেই তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। তাদের অনেকেরই এটি ছিল জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ছেলেদের দুটি ও মেয়েদের দুটি আবাসিক হল মিলিয়ে চারটি হলে প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন মেসেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্বল্প ছুটি ও যাতায়াত-সংকটের কারণে তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভোটগ্রহণের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীর মতো দূরের জেলায় যাতায়াতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। নির্বাচনি ছুটিকে কেন্দ্র করে যানবাহনের সংকট ও বাড়তি ভাড়াও তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সেতু বালা বলেন, প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও দূরত্ব ও যাতায়াত-সংকটের কারণে যেতে পারিনি। ছুটিতে গাড়ি কম, যাত্রী বেশি—ভাড়া তিন-চারগুণ বেড়ে গেছে। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক।
ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, আমার বাড়ি নীলফামারীতে, যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। বাসা দূরে হওয়ায় এবং এই ৪ দিনের ছুটিতে বাসায় যাওয়া সম্ভব নয়। আবার সামনে মিড পরীক্ষা। এই কয়েক দিনের ছুটিতে বাসায় যাওয়া সম্ভব নয়।
ফোকলোর বিভাগের খুলনার এক শিক্ষার্থী বলেন, ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তিনি বাড়ি যেতে পারেননি। এখন বাসে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। সামনে আবার ঈদের ছুটি ও মিড পরীক্ষা। কয়েক দিনের জন্য এত ব্যয় বহন করা কঠিন।
রাজশাহী বিভাগের এক শিক্ষার্থী ইকবাল মাহমুদ বলেন, মাত্র চার দিনের ছুটি ছিল, যা যাতায়াতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। অর্থ ও সময়—দুই দিক থেকেই হিসাব করে যেতে পারিনি। ভোট দিতে না পারার কষ্ট থেকেই গেল।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও ছুটির সময়সূচি সমন্বয় করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ছুটি ও পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিন্যাস করা হলে অনেক শিক্ষার্থী সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতেন বলে তাদের অভিমত।




