বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট হয়ে গেছে, তখন কী করণীয়

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন আপনার ভোট হয়ে গেছে, তখন কী করণীয়

ভাবুন তো, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানলেন—আপনার ভোট নাকি আগেই দেওয়া হয়ে গেছে! স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়, ক্ষোভ আর হতাশা একসঙ্গে ভর করতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।  এক্ষেত্রে আইন আপনাকে সুরক্ষা দেয়, আপনার অধিকার অটুট থাকে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ধারা ৩১ স্পষ্টভাবে বলছে—প্রকৃত ভোটার তার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন, এমনকি কেউ যদি প্রতারণা করে তার নামে আগেই ভোট দিয়ে থাকে তবুও। অর্থাৎ, অন্য কেউ ছদ্মবেশে ভোট দিলেও আপনার অধিকার নষ্ট হয় না।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন। 

১. প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করুন

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন আপনার নামের পাশে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়া আছে, সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানান। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করুন। শান্ত থাকুন এবং নিয়ম অনুযায়ী দাবি জানান।

২. ‘টেন্ডারড ভোট’ বা প্রদত্ত ভোটের আবেদন করুন 

আইন অনুযায়ী, আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আপনি প্রকৃত ভোটার এবং আপনার ভোট অন্য কেউ ছদ্মবেশে দিয়েছে, তবে প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ দিতে বাধ্য। একে বাংলায় ‘প্রদত্ত ভোট’ বলা হয়। এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার একটি আইনি ব্যবস্থা।

কীভাবে টেন্ডারড ভোট দেবেন? 

প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে একটি আলাদা ব্যালট পেপার দেবেন, যার পেছনে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ বা ‘প্রদত্ত ব্যালট পেপার’ লেখা থাকবে। আপনি পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দেবেন এবং ব্যালটটি নিয়ম অনুযায়ী ভাঁজ করবেন।

মনে রাখবেন, এই ব্যালট সাধারণ ব্যালট বাক্সে ফেলা হয় না। এটি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হয়। পরে এটি বিশেষ খামে সংরক্ষণ করা হয়।

ভোট গণনায় এর গুরুত্ব কতটা?

প্রাথমিক গণনায় সাধারণত টেন্ডারড ভোট গণনা করা হয় না। তবে কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান খুব কম হলে বা ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা হতে পারে। ফলে আপনার একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ

অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে পারেন। নির্বাচন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শান্তভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী আপনার অধিকার প্রয়োগ করুন। সচেতন থাকুন, আইন জানুন এবং নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুন।

সূত্র: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (ধারা ৩১ ও সংশ্লিষ্ট বিধান); বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভোটগ্রহণ নির্দেশিকা; দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (প্রতারণা ও ছদ্মবেশ সংক্রান্ত ধারা)

শেয়ার করুন