মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৭ জন আহত

ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৭ জন আহত

ভাঙ্গায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী ইউনিয়নের আড়ুয়া মাঠ এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৩ টার দিকে একটি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বরিশাল থেকে ঢাকা গামী সুপারি বহনকারী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের জোরে বাসটি রাস্তার পাশে থাকা খাদে ছিটকে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের যাত্রীদের মধ্যে অনেকের মাথা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন রাহাত। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বর্ধিত তথ্য অনুযায়ী, বাসের যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগের আহত হওয়ার কারণ ছিল সংঘর্ষের জোরে বাসের ভেতরের বস্তু ও আসনের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া। ট্রাকটির সামনের অংশও সংঘর্ষের জোরে দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি টিম এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ১৭ জন আহত রোগী ভর্তি করেছি। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগের মাথা, হাত ও পায়ের আঘাত রয়েছে। চিকিৎসা চলছে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আবু জাফর বলেন, ‘ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী বাসটি চলাচলকালে বরিশাল থেকে আসা সুপারি বহনকারী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জন আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এছাড়াও স্থানীয়রা তাদের নিজস্বভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।’

স্থানীয়রা জানান, আড়ুয়া মাঠ এলাকাটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অতীতে পরিচিত। এ পথে চলাচলকারী বড় যানবাহনগুলোর জন্য ঘনবসতি ও সংকীর্ণ সড়কের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় থাকে। বাস এবং ট্রাকের সংঘর্ষের কারণে রাস্তার একটি অংশ কিছু সময় বন্ধ থাকে, যা সাধারণ যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের চলাচল ব্যাহত করেছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা বলেছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য বাস ও ট্রাকের ড্রাইভারসহ যাত্রীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন