শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘মাদক চক্রের নেতার’ সঙ্গে বৈঠকে সম্মানিত বোধ করছেন ট্রাম্প!

‘মাদক চক্রের নেতার’ সঙ্গে বৈঠকে সম্মানিত বোধ করছেন ট্রাম্প!

দীর্ঘদিনের তিক্ততা ও প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ কাটিয়ে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকে মিলিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই নেতাই অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ এবং ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন। অথচ গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প তাকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ এবং ‘অবৈধ মাদক নেতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন, অন্যদিকে পেত্রোও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে পেত্রো জানান, এটি ছিল ভিন্ন মতাদর্শের দুজন মানুষের মধ্যে একটি কার্যকর আলোচনা। তিনি স্পষ্ট করেন যে তারা কেউ তাদের আদর্শ পরিবর্তন করেননি, বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

বৈঠক শেষে সৌজন্যের এক বিরল চিত্র দেখা গেছে। ট্রাম্প তার ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইটি পেত্রোকে উপহার দেন, যেখানে তিনি হাতে লিখে পেত্রোকে ‘গ্রেট’ বলে সম্বোধন করেছেন। এছাড়া একটি ছবিতে ট্রাম্প লিখে দিয়েছেন, কলম্বিয়াকে তিনি ভালোবাসেন এবং পেত্রোর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ তার জন্য সম্মানের।

এর আগে গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই কলম্বিয়া থেকে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে দুই নেতার মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প কলম্বিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন এবং পেত্রোর মার্কিন ভিসা বাতিলসহ তার প্রশাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এমনকি গত মাসেও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে মঙ্গলবারের এই বৈঠক সেই বৈরী সম্পর্কে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কঠোর। ট্রাম্প চান কলম্বিয়া যেন কোকা চাষ নির্মূলে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। তবে বামপন্থি নেতা পেত্রো এই সামরিক পদ্ধতির বিরোধিতা করে জানান, তার সরকার কৃষকদের স্বেচ্ছায় ফসল ধ্বংস করতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বেশি সফল হয়েছে। পেত্রো ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার বন্ধে প্রকৃত মিত্র চায়, তবে দরিদ্র কৃষকদের শাস্তি না দিয়ে বড় বড় মাদক সম্রাটদের ধরতে হবে। দুই নেতার মধ্যে পদ্ধতির এই পার্থক্য থাকলেও তারা একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের গাজা যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে দুই নেতার অবস্থানে স্পষ্ট ভিন্নতা ছিল। পেত্রো মার্কিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং কোনো প্রকার ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না।

মজার বিষয় হলো, পেত্রো ট্রাম্পের বিখ্যাত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান সংবলিত টুপিতে কলম দিয়ে একটি ‘এস’ অক্ষর যোগ করে সেটিকে ‘মেক আমেরিকাস গ্রেট এগেইন’ (পুরো আমেরিকা মহাদেশকে শ্রেষ্ঠ করো) বানিয়ে ফেলেন। কলম্বিয়ার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে পেত্রোর এই উষ্ণ সম্পর্ক দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

শেয়ার করুন