ইরান ও আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী সম্পদসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্রোহীরা নিরাপত্তা বাহিনী, বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে।
পাকিস্তানের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, শনিবার হামলাকারীরা সাধারণ বেসামরিক মানুষের ছদ্মবেশে হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক ও বাজারে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা বেসামরিক পোশাকে এসে দোকানে কাজ করা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গিরা বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।
প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় হামলার পর চিত্র স্পষ্ট—একটি পুলিশ স্টেশনে পুড়ে যাওয়া যানবাহন, গুলিবিদ্ধ দরজা এবং হলুদ টেপ দিয়ে ঘেরা রাস্তা। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করে এবং চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, এসব হামলায় ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
বুগতি বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে এ ধরনের একটি অভিযান পরিকল্পিত হচ্ছে। সে কারণেই এক দিন আগে থেকেই প্রাথমিক অভিযান শুরু করা হয়েছিল।’
তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল, যদিও তিনি তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যান দেননি।
কর্মকর্তারা জানান, কোয়েটা, গ্বাদর, মাস্তুং ও নুশকি জেলায় প্রায় একই সময়ে হামলা চালানো হয়।
একটি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী জামিল আহমেদ মাশওয়ানি বলেন, দুপুরের পরপরই হামলাকারীরা আঘাত হানে। তার ভাষায়, ‘ওরা আমার মুখ ও মাথায় আঘাত করেছে।’





