সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেন আসছে না অতিথি পাখি

কেন আসছে না অতিথি পাখি

রাজধানীর আফতাবনগর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অতিথি পাখির দেখা মেলে না। জলাশয় কমে যাওয়া এবং নদী ভরাট ও দূষিত হয়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে পাখি না আসায় হতাশ দর্শনার্থী, পাখিপ্রেমী ও পরিবেশবিদরা। শীতের ভরা এই মৌসুমেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো এবার অতিথি পাখিশূন্য পড়ে আছে।

রাজধানীর আফতাবনগরে দেখা যেত বালিহাঁস, পাতিহাঁস, লেজহাঁস, পানকৌড়ি এবং ছোট বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ভোরবেলা এবং বিকালে এই জলাশয়গুলোতে শত শত পাখির ওড়াউড়ি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করত। অথচ এ বছর পাখিশূন্য অবস্থায় রয়েছে জায়গাটি। অ্যানিমেল ওয়েল ফ্যায়ার অ্যাসোসিয়েশন আহ্বায়ক ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আদনান আজাদ বাংলদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাখির সংখ্যা দিনদিন কমছে। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও মানবসৃষ্ট কারণে অতিথি পাখি বিচরণের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। শীতের সময়ে আগত অতিথি পাখিরা জলাশয় বা লেকে সাধারণত শাপলা ফুলের পাতায় বসে। দেখা যাচ্ছে জলাশয়গুলোতে এখন মাছ চাষ হচ্ছে। ফলে পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এমন জলাশয়ে পাখিরা আসে না। আবার জানুয়ারির প্রথম কয়েক দিন পরই শীত নেই তেমন। ফলে পাখিরা মনে করে তার নিজ দেশের বরফ গলতে শুরু করেছে।

ফলে ফিরে যেতে থাকে নিজ নিজ দেশে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও আলোকচিত্রী সিজেন সরকার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক মাছ চাষের জন্য ২৬ লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছে। যিনি লিজ নিয়েছেন তিনি লেক পরিষ্কার করেছেন তার মাছ চাষের সুবিধার্থে। যে লেকে মাছ চাষ হয় সেখানে পাখি থাকে না। উদাহরণ হিসেবে চৌরঙ্গীর পাশের রংপুকুর।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম বলেন, এভাবে লিজ দেওয়া হয় না। তবে এ বছর লিজ দেওয়া হয়েছে কি না আমার জানা নেই এখনো। তবে মাছ চাষে লিজ দেওয়া হলে পাখিরা আসবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে আমরা সবসময়ই জানিয়ে আসছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক লিজ দেওয়া হয় না অনেক আগে থেকেই।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দেশান্তরী পাখির বিভিন্ন প্রজাতি বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আসা যাওয়ার দুস্তর পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয় এদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশান্তরী পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণেও বর্তমানে দেশান্তরী বা পরিযায়ী পাখিদের আবাসস্থল ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

শেয়ার করুন