ভারতের সরকার তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলমান “পরিস্থিতির পরিবর্তন” এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতীয়রা ইরান ত্যাগ করার ব্যবস্থা নিক।
দূতাবাস আরও নির্দেশ দিয়েছে, ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত এবং যেসব এলাকায় বিক্ষোভ বা জনসভা চলছে, সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদেরও ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। দেশটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে আন্দোলন হলেও, দ্রুত তা সহিংস রূপ নিল। সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহিংসতায় ইতিমধ্যেই হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাতারের দোহা শহরের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে নিজেদের কিছু সেনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটি।
রয়টার্সকে বুধবার তিনজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, সন্ধ্যার মধ্যে এ নির্দেশ কার্যকর করা হবে। তবে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, ছাড়ার কোনো স্থায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এক কূটনীতিক উল্লেখ করেন, “এটি কেবল সৈন্যদের অবস্থান সাময়িকভাবে পরিবর্তনের বিষয়; ঘাঁটি পুরোপুরি ত্যাগের নির্দেশনা নয়।” এছাড়া, সরে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণও তাদের জানা নেই।





