ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিতে আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব মিত্র দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
এনবিসির বরাতে জানা যায়, ওই বৈঠকগুলোতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানান ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দিন দিন জোরালো হলেও দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকার এখনও এমন পর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়েনি, যেখানে সরাসরি সামরিক অভিযানে তাদের পতন নিশ্চিত করা সম্ভব। তাদের মতে, যখন নিশ্চিতভাবে বোঝা যাবে যে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটবে, তখনই সেই পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও পরামর্শ দেন, সেই সময় না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে পরোক্ষ কৌশল গ্রহণ করা। অর্থাৎ এমন চাপ সৃষ্টি করা, যাতে ইরানের বিক্ষুব্ধ জনগণ লাভবান হয়, সরকার আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো দেশ যেন তেহরানের পাশে দাঁড়াতে না পারে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে তারা মত দেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, সেটি ইসরায়েলের এই কৌশলগত পরামর্শের ফল হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে যদি ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে ইসরায়েল যৌথভাবে সেই অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতার। মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল আনসারি বলেন, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হলে তা শুধু দেশটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
অন্যদিকে একই দিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের জনগণের উদ্দেশে একটি কড়া বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের নাগরিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেয় এবং দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সংরক্ষণ করে রাখে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হবে।





