ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি তারা বিশেষ মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। দুই দেশের সেনাবাহিনী মধ্যস্থ নানা চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেনারেল দ্বিবেদী সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রতিক্রিয়া মূলত নির্ভর করবে ঢাকায় কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে তার ওপর।
তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশে সরকার কি ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদি এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়, তাহলে দেখতে হবে যে তাদের নীতি কেবল সাময়িক যেমন পরবর্তী কয়েক মাসের জন্য, নাকি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। সেই অনুসারে আমাদের প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে।’’
জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের তিন বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘আজকের দিনে তিন বাহিনীর সব চ্যানেল সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি, এবং অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’’
তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ে সব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরাও নিয়মিত সংযোগে আছেন। এই সমস্ত যোগাযোগের উদ্দেশ্য, জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল যোগাযোগের কোনো অবকাশ না থাকা।’’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশি সেনাবাহিনী এখনও ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, ‘‘আজ পর্যন্ত যে কার্যক্রমগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই ভারতের প্রতি প্রতিক্রিয়ামূলক নয়।’’
সেনা আধুনিকায়ন সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি যে কোনো দেশের জন্যই একটি চলমান প্রক্রিয়া। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘সক্ষমতা উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যেমন ভারত এটি করছে, অন্যান্য দেশও করছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রস্তুত আছি।’’





