বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেট-৫ আসনে ফারুক-মামুনের দ্বন্দ্বে জয়ের স্বপ্ন দেখছে জামায়াত ​

আব্দুস শহীদ শাকির, জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি :
​সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টে যাচ্ছে রাজনৈতিক দৃশ্যপট। ভোট ও জোটের জটিল সমীকরণে আসনটিতে এখন ‘প্লাস-মাইনাস’ লড়াই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে এ আসনে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
​স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মাওলানা উবাদুল্লাহ ফারুক জোটের প্রার্থী হিসেবে যথেষ্ঠ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও তার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন চাকসু মামুন। তৃণমূল বিএনপিতে মামুনের রয়েছে শক্ত অবস্থান ও ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এবার জোটের কারণে দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় অনেক বিএনপি নেতা এখনও মামুনের সঙ্গেই আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামুন যদি ফারুকের ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের ধস নামাতে পারেন, তবে জোট প্রার্থীর জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনা কঠিন হবে।
​দুই প্রার্থীর এই বিভক্তিকে নিজেদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। কানাইঘাট-জকিগঞ্জ এলাকাটি ধর্মপ্রাণ আলেম-উলামা অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে বরাবরই ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রভাব বেশি। ২০০১ সালে এখান থেকে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায় দলটি।
​জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফারুক ও মামুনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, জামায়াতের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন খানের জয়ের সম্ভাবনা তত উজ্জ্বল হবে। তারা ‘প্লাস থেকে মাইনাস’ লড়াইয়ের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
​মাওলানা উবাদুল্লাহ ফারুকের সাথে জোটের শক্তি ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা থাকলেও তৃণমূলের বড় একটি অংশ চাকসু মামুনের পক্ষে কাজ করছে। অন্যদিকে, জামায়াত এককভাবে মাঠে থাকায় তাদের ভোট কাটাকাটির ভয় নেই। ফলে সিলেট-৫ আসনে শেষ পর্যন্ত লড়াইটি ‘জোট বনাম বিদ্রোহী বনাম জামায়াত’এই ত্রিমুখী ধারায় রূপ নিতে যাচ্ছে।
​নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের ভোটারদের নজর এখন এই প্লাস-মাইনাস অংকের দিকে। শেষ পর্যন্ত দ্বন্দ্ব মিটে ফারুকের পাল্লা ভারী হয়, নাকি বিভক্তির সুযোগে জামায়াত বাজিমাত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শেয়ার করুন