বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯, হাই পারফরম্যান্স ও ‘এ’ দলের কার্যক্রম থাকলেও এতদিন অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এবার সেই শূন্যতা পূরণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি জানান, খালেদ মাসুদ পাইলটের প্রস্তাবিত নতুন ধারণাগুলো বোর্ডের কাছে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেট উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে যে রিজিওনাল সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে। আপাতত চারটি জেলা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে কোনো ভুল হলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো, দেশের প্রতিটি প্রতিভাবান ক্রিকেটার যেন জাতীয় দলে ওঠার সুস্পষ্ট একটি পথ দেখতে পায়।
রাজশাহীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্রিকেট উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। তিনি জানান, সেখানে ২৫টি স্কুলকে নিয়ে একটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এতে ক্রিকেট বোর্ডের সম্পৃক্ততা সীমিত হলেও, ভবিষ্যতে বিসিবির তত্ত্বাবধানে রাজশাহী জেলায় একটি রিজিওনাল সেন্টার স্থাপন করা হলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়িত হবে।
অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল, ‘এ’ দল, টাইগার্স স্কোয়াড ও হাই পারফরম্যান্স ইউনিট—সব মিলিয়ে কাঠামো থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের মধ্যে একটি বড় ফাঁক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পর্যায়টি উপেক্ষিত থাকায় অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার সঠিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
এই ঘাটতি পূরণে খুব শিগগিরই অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে একটি নতুন প্রোগ্রাম চালু করা হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। এই কর্মসূচি বাংলাদেশ একাডেমি ধারণার আদলে পরিচালিত হবে, যেখানে ক্রিকেটারদের শুধু মাঠের দক্ষতাই নয়—মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা, সময় ব্যবস্থাপনা, পেশাদার আচরণ এবং একজন পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে। এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন বিসিবির পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
এছাড়া হাই পারফরম্যান্স ইউনিট নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার কথাও জানান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার মতে, এই ইউনিটের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, পেস ও স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দক্ষতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ইউনিট থেকেই ২০৩০ থেকে ২০৩২ সময়কালের জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, অতীতে হাই পারফরম্যান্স কাঠামো সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। সেই ভুল সংশোধনের কাজ এখন শুরু হয়েছে, যা সহজ নয়। এর জন্য সুপরিকল্পনা, দক্ষ জনবল ও মানসম্মত কোচিং স্টাফ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বোর্ড ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তার মতে, দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে সম্ভাবনার জায়গা অনেক, আর সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতেই বিসিবি এখন নতুন করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছে।





