বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে বিক্ষোভ তীব্র, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ভীড়                                        

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় দুটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে আহত রোগীদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।

একজন চিকিৎসক জানান, তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতাল বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, বিবিসি আরেকটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছে, যেখানে তিনি জানিয়েছেন—রোগীদের চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই।

এ অবস্থায় শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যায়’ পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনাদের গুলি চালানো উচিত নয়; কারণ আমরাও গুলি চালানো শুরু করবো।”

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুরের’ রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

এর মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বড় বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

দুটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে বিবিসি এবং অন্যান্য বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ওপর ইরানের অভ্যন্তরে খবর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেট বিভ্রাট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইরানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে, ফলে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার রাতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা তেহরানের এক চিকিৎসক বলেন, প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটে পড়েছে এবং জরুরি সেবাগুলোও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, জরুরি নয়—এমন ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কর্মীদের ডাকা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিবিসি একটি ভিডিও ও অডিও বার্তা পায়। ওই চিকিৎসক বলেন, আহত অনেক রোগী হাসপাতালে আনা হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় সার্জনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি দাবি করেন, আহতদের অনেকের মাথা ও চোখে গুলি লেগেছে।

২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠন জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরও দুই হাজার ৩১১ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

নরওয়েভভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নয় শিশুসহ অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান নিহতদের ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, এসব প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সেই অধিকার রক্ষা ও সম্মান করার দায়িত্ব রয়েছে।

শেয়ার করুন