ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ তীব্রতর হওয়ায় দেশটিকে আবারও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান এখন বড় বিপদের মধ্যে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতেও প্রস্তুত।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান বড় সমস্যায় আছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, জনগণ এমন কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করেনি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
গত জুনে ইরানে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তোমরা গুলি চালানো শুরু করলে আমরাও গুলি চালাবো।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন,‘আমি শুধু আশা করি, ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ এই মুহূর্তে জায়গাটা খুবই বিপজ্জনক।’
অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, রাতভর সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ আখ্যা দেন এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশি শত্রু—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—এই বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে।
খামেনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে এবং বিদেশিদের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করে বলেন, তার হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।
বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রতি প্রকৃত অভিযোগ শোনার কথা বললেও, সরকারের অন্যান্য মহল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে—বিদেশি শক্তির সমর্থন পাওয়া এসব আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, তেহরানের বহু নাগরিক পুলিশ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন—যেসব এলাকায় সহিংসতা হচ্ছে, সেসব এলাকা এড়িয়ে চলতে।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার খুব কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।’
এদিকে ইরানের কুর্দি ও বালুচ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানিয়েছে, শুক্রবার নামাজের পর বেলুচ-অধ্যুষিত জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে বেশ কয়েকজন আহত হন।
সূত্র: আল-জাজিরা





