সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী মার্চ’ কর্মসূচি পুলিশ আটকে দিয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচির পথে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে নেতাকর্মীদের আগ্রাসীভাবে এগোনো থেকে বিরত রাখেন।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল:
‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘কাঁটাতারের ফেলানী, আমরা তোমাকে ভুলিনি’, ‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর, ইন্ডিয়া নো মোর’, ‘এক-দুই-তিন-চার, ইন্ডিয়া তুই হুঁশিয়ার’, ‘ভারতের গোলামি, চলবে না চলবে না’।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে ভারত বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তারা বলেন, সেই সময়ে জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। শরিফ ওসমান হাদিকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এছাড়া বাংলাদেশের ওপর ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানান।
এ সময় নেতারা আরও বলেন, বিএসএফ এখনও বাংলাদেশিদের হত্যা করছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আসন্ন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে ওয়াশিংটন, মস্কো, বেইজিং কিংবা দিল্লির কোনও হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন ফেলানী খাতুন। হত্যার পর সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের ওপর ঝুলে ছিল তার মরদেহ। কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহ বিশ্বজুড়ে সীমান্ত হত্যার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আজ সেই হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো।





