বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলা থেকে ৩-৫ কোটি ব্যারেল তেল সরাসরি আমেরিকায় পাঠানোর ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপের পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বিষয়টি জানিয়েছে।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারের সামান্য বেশি স্থানে নেমে আসে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৫৬.৪৪ ডলার। এই তেল হস্তান্তরের পরিকল্পনা ট্রাম্পের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে তিনি জানান। ট্রাম্পের দাবি, এই বিপুল সম্পদ ভেনিজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হবে। তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে স্টোরেজ শিপের মাধ্যমে আনা হবে।

গত শনিবার ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নেয়। ট্রাম্প দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে মার্কিন ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

এই হস্তান্তরের প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ভেনিজুয়েলার তেলের ৮০ শতাংশ চীনে যায়। সরবরাহ ব্যাহত হলে বেইজিংকে চড়া দামে তেল কিনতে হতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তেলের এই হস্তান্তর আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ভেনিজুয়েলার জনগণের অধিকারের পরিপন্থি।

ট্রাম্পের ঘোষণার প্রেক্ষিতে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে পুনর্গঠন নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। শেভরন, কনোকোফিলিপস এবং এক্সন মবিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে বিশাল বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর দুরবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার জরাজীর্ণ অবকাঠামোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১৫ বছর সময় এবং ১৮৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। ২৫ বছর আগে দেশটি দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, এখন তা কমে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল।

শেয়ার করুন