পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামীর নেতৃত্বে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে আদালত পলাতক থাকা ৩২ আসামির জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আদালত এই আদেশ দেন, এবং মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত সূত্র।
জানা গেছে, চার্জশিটে সাইফুজ্জামীর সঙ্গে ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আব্দুল আজিজ, উৎপল পাল, জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৩২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি দুদক ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রায় ৯.৫ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন করেছিল। এই মামলা ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান দায়ের করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছিল, তবে তদন্ত শেষে চার্জশিটে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ জনে। এর মধ্যে ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক এফএভিপি মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামীর স্ত্রী এবং ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, এবং সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাইফুজ্জামীর একজন কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অর্থটি আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর মালিকানায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা।
পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।





