জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ভাই শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত থেকেই ঠিক করা হয় বাংলাদেশ কে পরিচালনা করবে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এজেন্টরা মালিকের নির্দেশে দেশ চালিয়েছে। যখন আর সম্ভব হয়নি, তখন মালিক নিজেই এজেন্টকে সরিয়ে নিয়েছে। ভারতের এই গুণ্ডামির সঙ্গে যারা আপস করেননি, তাদের একজন ছিলেন হাদি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৃত্যুর আগে অসিয়ত থাকে। হাদি মৃত্যুর আগে একটি কথাই বলে গিয়েছিলেন—আমাকে মেরে ফেললেও আক্ষেপ নেই, কিন্তু আমার হত্যার বিচার যেন নিশ্চিত করা হয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আজ তার মৃত্যুর প্রায় চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার নিশ্চিত করা যায়নি।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফাতেহাবাদ এলাকায় শরীফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত পৃথক উঠান বৈঠক ও আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় আমরা দেখেছি—বিএনপি বা জামায়াত কোনো কর্মসূচি দিলেই গোয়েন্দারা সেখানে হাজির হতো। হাদি ভাইয়ের প্রতিটি কর্মসূচিতেও গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতি ছিল। এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর খুনিরা নিরাপদে ভারতে চলে গেলেও আমাদের দেশের গোয়েন্দা বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি ভারতকে বলেছি—যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এ দেশে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটাতে হবে।





