এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা বৃহস্পতিবা (৮ জানুয়ারি) থেকে দেশের এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি ও অন্যান্য নেতারা।
সভাপতি মো. সেলিম খান বলেন, “বাংলাদেশে এলপিজির চরম সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম ঘোষণা করেছে, যা পরিবেশক ও ভোক্তাদের আরও বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট মোকাবিলার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশে ২৭টি কোম্পানি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার এলপিজি বাজারজাত করেছে। তবে বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে রিফিল করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। বেশিরভাগ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবেশকরাও দেউলিয়ার পথে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি ছয় দফা দাবি তুলেছে—এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
এলপিজি পরিবহনকারী গাড়ির পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, ভোক্তা অধিকার সংস্থার চলমান অভিযান স্থগিত করা ,পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বৃদ্ধি, খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বৃদ্ধি
সহ অন্যান্য বিষয়।
সমিতি আরও জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে দেশে এলপিজির ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছেন। জানুয়ারিতে বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করার পর, সাম্প্রতিক সময়ে একই প্রোডাক্টের দাম ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, কারসাজির দায় খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।





