রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাদুরো শাসনামলে সুইজারল্যান্ডের কাছে ৫২০ কোটি ডলারের স্বর্ণ বিক্রি

ছবি: সংগৃহীত

নিকোলা মাদুরোর শাসনামলের প্রথম দিকেই ভেনেজুয়েলা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তর করেছিল। সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ৫২০ কোটি ডলারের সমমূল্যের স্বর্ণ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

রয়টার্সের হাতে আসা নথি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর মোট ১১৩ টন স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম এসআরএফ জানিয়েছে, এই স্বর্ণের উৎস ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার এই সময় স্বর্ণ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে পাঠানো হয়নি বলে শুল্ক নথি থেকে জানা গেছে।

উল্লেখযোগ্য, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করেছে। বর্তমানে মাদক পাচার ও নারকো-টেররিজমের অভিযোগে নিউইয়র্কের আদালতে তার বিচার চলছে।

এর পাশাপাশি, সুইজারল্যান্ড সরকার মাদুরো এবং তার ৩৬ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই সম্পদের পরিমাণ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ মূলত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য সুইজারল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডে পাঁচটি বড় স্বর্ণ রিফাইনারি রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী স্বর্ণ পরিশোধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের চাপের কারণে দেশটি এই মূল্যবান সম্পদ হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা একপ্রকার জরুরি ভিত্তিতে স্বর্ণ বিক্রি করেছিল। এর একটি বড় অংশ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছিল এবং পরবর্তীতে হয়তো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা ছোট বার হিসেবে এশিয়া বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হয়েছিল।

ও’কনেল আরও যোগ করেন, ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা মানার পর এই বাণিজ্যিক পথ বন্ধ হয়ে যায়। তার মতে, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুত সম্ভবত প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

শেয়ার করুন