শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাদি হত্যার দায়সারা চার্জশিট জনগণ মেনে নেবে না: ইনকিলাব মঞ্চ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত না করে দায়সারা চার্জশিট দাখিল করলে তা জনগণ গ্রহণ করবে না বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেছেন, ভাড়াটে খুনিদের নাম দেখিয়ে মূল নায়ক বা পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হলে বাংলাদেশের জনগণ সরাসরি সেই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ চত্বরে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। শুরু থেকেই সংগঠনটি অবরোধ, মানববন্ধন, সমাবেশ ও শহীদী শপথের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু ১৯ দিন পার হলেও সরকার এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি যা জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারে।

জাবের বলেন, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর এই হত্যার ক্ষুদ্র হাতিয়ার বা ভাড়াটে মাত্র। তবে প্রশ্ন হলো, খুনের প্রকৃত নির্দেশদাতা এবং পরিকল্পনাকারীরা কে? চার্জশিটে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র হাতিয়ারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দায় সারার চেষ্টা হলে, এটি শুধু বিচার নয়, বরং জাতির সঙ্গে প্রতারণা হবে।

সমাবেশে আবদুল্লাহ আল জাবের চার দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করা; ১৭ বছর ধরে গুম, খুন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো; ভারত সহযোগিতা না করলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা; এবং গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সক্রিয় ভারতীয় এজেন্টদের শনাক্ত করে তাদের বিচার নিশ্চিত করা।

ওসমান হাদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সবচেয়ে সক্রিয় কণ্ঠস্বর এবং ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে জাবের বলেন, তার হত্যা কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, বরং এক প্রতিবাদী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।

সমাবেশের রুট সম্পর্কে আয়োজকরা জানান, শাহবাগ থেকে যাত্রা শুরু হয়ে সায়েন্সল্যাব, সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর-তিন রাস্তার মোড়, মিরপুর ১০, উত্তরা বিএনএস সেন্টার, যমুনা ফিউচার পার্ক, বাড্ডা, রামপুরা টিভি সেন্টার ও যাত্রাবাড়ী পার্কসহ ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্য দিয়ে মিছিল সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে পুনরায় শাহবাগে ফিরে সমাপনী জমায়েত করবে।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় ন্যায়বিচারের দাবিকে আবারও রাজপথে দৃশ্যমান করতে হবে। এই লড়াই হচ্ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই, এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে চার্জশিটে সত্য থাকা প্রয়োজন, কোনো মুখোশ নয়।

শেয়ার করুন