রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেও অনেক ক্রেতা গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পড়েছেন চরম সংকটে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার দেওয়ার পরও নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দোকানগুলোতে গ্যাস আসলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহ কম থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস সংগ্রহ করছেন। তবে এই বাড়তি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাদের। ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সংসার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাস ছাড়া অন্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ব্র্যান্ডের গ্যাস একেবারেই অনুপস্থিত। বিকল্প কোম্পানির গ্যাস না থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার বেশি দামে কিনছেন। এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চা দোকানের মালিকরা জানান, গ্যাসের এই অস্বাভাবিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার সময় কমিয়ে দেওয়া কিংবা দোকান আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ডিলারদের নীরবতায় সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শেয়ার করুন