বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, উগ্রবাদী প্রবণতা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর বাসদরের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, মূলত প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের প্রতি সমবেদনা জানাতেই তারা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি শোকাহত পরিবার ও দলকে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং উগ্রবাদী শক্তির উত্থান বিষয়ক আলোচনাও হয়েছে।”
ফিরোজ আরও বলেন, “তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০০৬ সালের গণআন্দোলনের মূল শিক্ষা থেকে চলমান রাজনীতিতে আমাদের পথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, জনগণকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনীতিতে বিরোধী দল থাকবে, কিন্তু দেশের ও জনগণের স্বার্থে আমরা মতপার্থক্য উপেক্ষা করে আলোচনা চালিয়ে যাব। পরামর্শ থাকলে আমরা গ্রহণ করব। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকবে।”
বজলুর রশীদ বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা শক্তি যেন দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো সংগঠন জাতীয় সরকারের মাধ্যমে স্বাধীনতার বিরোধিতার চেষ্টা করলে আমরা তা প্রতিহত করব। এই বিষয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। সমালোচনা ছাড়া গণতন্ত্রের কার্যকারিতা সম্ভব নয়। আলোচনাও অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও নানা পর্যায়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠক চলবে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদরের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।





