সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্ষমতায় এলে শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমন্বিত উন্নয়নের আশ্বাস: তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও সহায়ক ও বিনিয়োগ বান্ধব করার অঙ্গীকার করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সব খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব, বিনিয়োগ পরিবেশ ও শিল্প-উদ্যোগগুলোকে সচল রাখার পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই সময় তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের জড়িত সমস্যা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং ক্ষমতায় আসলে সেগুলোর সমাধানের আশ্বাস দেন।

বৈঠকের পরে এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। সরকারের সাফল্য ব্যবসায়ীদের সফলতার সঙ্গে যুক্ত। তারেক রহমান আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। যদিও সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান সম্ভব নয়, তবে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা আমরা দেখতে পেয়েছি।”

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংলাপ অপরিহার্য। সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা তারেক রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি যে কিভাবে শিল্প ও বিনিয়োগকে পুনরায় গতিশীল করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “কোন দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যদি তারা দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে, তবে অর্থনীতি প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে। তারেক রহমানও মনে করেন, ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সহযোগিতা রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যেখানে সম্ভব সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং যেখানে সম্ভব নয়, সেখানেও স্বচ্ছতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, “ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের জন্য একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ অপরিহার্য। আমাদের বারবার মনে করিয়েছি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে দেশের অর্থনীতির বিকাশ অসম্ভব।”

মীর নাসির হোসেন বলেন, “তারেক রহমান আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ক্ষমতায় এলে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন। এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও সহায়ক হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএ সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবি সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আব্দুল মুক্তাদির, বিএসআরএম সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী ও এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার টিটু ও ইউসিবিএল চেয়ারম্যান শরীফ জহির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, ফজলুল হক, বিটিএমএ সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ।

শেয়ার করুন