নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ রোববার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো দুই নম্বরি কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, হবে না, হবে না, হবে না। যদি আপনাদের মধ্যে কেউ দুই নম্বরি কাজ করে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাদের নির্দেশনা হলো তিনটি- স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা।”
ইসি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রভাব বা ভয়বিভ্রান্তিতে হার মানার সুযোগ নেই। “কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না, কোনো দিকে হেলে যাবেন না এবং কারো কথাতেই ভয় পাবেন না। কেউ ধমক দেবে আর আপনি ভড়কে যাবেন এটা হবে না। আপনি আইন অনুসরণ করে যেভাবে কাজ করতে হয় সেভাবে করবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন “সবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন”, যেখানে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ভাবমূর্তিকে রক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বিষয়ে ইসি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিস্ট এলিমেন্টের লোকজন বন্ধু সেজে পাশে দাঁড়াতে পারে। “ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আমরা যেটি দেখলাম, তাকে কিন্তু বন্ধু সেজেই হত্যা করা হয়েছে। আপনি যদি নিরাপত্তা সচেতন না হোন তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে ভোট চলাকালীন বের হওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোরভাবে নজর রাখতে হবে। “রোহিঙ্গারা রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে আটক হলে সেই দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে, রোহিঙ্গাদের নয়। কারণ তারা গ্রেপ্তার হলে আবার বেরিয়ে আসবে, তাই দলগুলোকেও সতর্ক থাকতে হবে।”
সভার আলোচনায় ইসি জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমন করতে শীঘ্রই যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হবে। পাশাপাশি, ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভা পরিচালনা করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমা, সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব। এতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।





