শরিফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা করে, আগামী ‘২২ কার্যদিবসের’ মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হলে তারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে।
এরপর ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার জন্যই ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ফেসবুকে জুমা লিখেছেন, ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল এ খুনের জন্যই। সরকারে বসা কে এ জামিনের জন্য তদবির করেছিল? কোন জজ এ রায় দিয়েছিল? সে কার রিক্রুট করা? কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছে? কার চ্যানেলে সে ইনকিলাবে এসেছিল?
কবির নামে যাকে গ্রেফতার করা হলো, সে সেন্টারে যেদিন প্রথম এ টাম্প নেয় সেদিন ফয়সালের সঙ্গে ছিল। ফয়সাল ছাড়া তার কাছেও লিড থাকার হাই চান্স আছে। তবুও কেন মামলার অগ্রগতি নেই? নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলা হচ্ছে?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা জাতির সামনে উন্মুক্ত করলে অনেক জট খুলে যায়।”
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার পরদিন, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে আহত করে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার উপস্থিতিতে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে দাফন করা হয়।





