বাংলাদেশের বাঁহাতি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান আগামী আইপিএলে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) কর্তৃপক্ষকে এমন নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের কারণে কেকেআরকে অন্য কোনো খেলোয়াড় দলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছেন, “সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে কেকেআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজুরকে দলে রাখার অনুমতি নেই। তবে পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটারকে নেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ড তাদের আবেদন অনুমোদন করবে।”
আগামী আইপিএলে মুস্তাফিজুর বাংলাদেশের একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে দলে থাকা কথা ছিল। নিলামে কেকেআর তাকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছিল। মুস্তাফিজুর আইপিএলের অন্যতম সফল বোলার হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তার দক্ষতা দলের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিল।
কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই সিদ্ধান্তকে আরও প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মতো ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে খেলতে পারছেন না। এবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর।
সম্প্রতি নোয়াখালিতে দীপু দাস হত্যার ঘটনায় ভারতের কিছু রাজনৈতিক দল ও সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংখ্যালঘুদের উপর বাংলাদেশে নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে বিজেপি, শিবসেনা ও কংগ্রেসের একাংশ সরব হয়েছে। এই রাজনৈতিক চাপ কেকেআর কর্ণধার শাহরুখ খান ও বোর্ডের ওপরও প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই প্রথমে জানিয়েছিল যে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নির্দেশ দেয়নি, কিন্তু পরবর্তীতে বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ বন্ধ।
ফলে, মুস্তাফিজুর আইপিএলে খেলতে পারবেন না। কেকেআরকে এখন অন্য ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই নির্দেশের ফলে কেকেআর দলে বিদেশি ক্রিকেটার নিলেও বাংলাদেশি খেলোয়াড় এবার আইপিএলে দেখা যাবে না।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব নয়, আইপিএলের ভেন্যু ও নিরাপত্তা, নীতিমালা এবং স্থানীয় চাপও এতে ভূমিকা রেখেছে। কেকেআর দলের বোলিং অগ্রগতি ও দলীয় পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাতে হবে। এছাড়া এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আরও ক্রিকেটার আইপিএলে অংশ নিতে পারবে কি না।





