বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা: আখতার হোসাইন খান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল পাঠ্যপুস্তক পাঠদানের জায়গা নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের প্রধান ক্ষেত্র। আর এই মহান দায়িত্ব বাস্তবায়নের মূল কারিগর হলেন  শিক্ষকগণ। একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে কিছু দিকনির্দেশনামূলক কথা লিপিবদ্ধ করলাম, যা মূলত একটি আদর্শ, শৃঙ্খলাবান ও মানবিক শ্রেণি ব্যবস্থাপনার রূপরেখা। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ গঠনের সূচনা হয় শিক্ষকের উপস্থিতি ও আচরণ থেকে। নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে ১৫ মিনিট পূর্বে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর প্রদান এবং পাঠদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের প্রাথমিক কর্তব্য। ক্লাস শুরুর আগে পাঠদানের প্রতি আবেগ তৈরীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি যেমন তৈরি হয়, তেমনি শিক্ষার ভিতও সুদৃঢ় হয়।
শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক কর্তৃক সালাম প্রদান, বোর্ড পরিষ্কার করে শ্রেণি, শাখা, তারিখ ও উপস্থিতির তথ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন এসবই শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পোশাক-পরিচ্ছন্নতা, শারীরিক অবস্থা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা একজন অভিভাবকসুলভ শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে যত্নশীল কি না, কিংবা কোনো শারীরিক বা পারিবারিক সমস্যায় আছে কি না এসব খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে বিশ্বাসের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন ক্যাম্পাস, ক্লাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দিবস ঘোষণা করা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুপস্থিত ও বিলম্বে আগত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতা, প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ, হোস্টেল সুপারকে অবহিত করা এসবই শিক্ষকের প্রশাসনিক সচেতনতার পরিচায়ক। হাজিরা খাতা, ডায়েরি, বই-খাতা ও প্রগতি প্রতিবেদন হালনাগাদ ও সংরক্ষণ শিক্ষকের পেশাদারিত্বের অপরিহার্য অংশ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বড়দের সালাম দেওয়া, শিক্ষকদের সম্মান করা, রাস্তায় শিষ্টাচার মেনে চলা, মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরির ভিত্তি।
পরিশেষে বলা যায়, শ্রেণিকক্ষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন শিক্ষক কেবল পাঠদাতা নন তিনি পথপ্রদর্শক, অভিভাবক ও আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। পাঠদান শেষে সালাম দিয়ে বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়েই সেই মহান দায়িত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। এমন সুসংগঠিত ও মানবিক শ্রেণি ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে পারে।
শেয়ার করুন