রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তার প্রতি জনগণের গভীর ভালোবাসারই প্রমাণ।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, জানাজায় মানুষ এমনভাবে অংশ নিয়েছে যে, কেউ কেউ বাড়ির ছাদ থেকে পর্যন্ত সেলফনেট করছেন। সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কেন এত বেশি ভালোবাসা, তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। নীতির বিষয়ে কখনো আপস করেননি, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে স্থির ছিলেন, এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনব্যাপী সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও তিনি দেশে ফিরে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দেশ ও মানুষের প্রতি অবিচল ভালোবাসাই তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং শ্রদ্ধা তৈরি করেছে। এই ক্রান্তিকালে যখন দেশের জনগণের পাশে তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক সেই সময়ে তার চলে যাওয়ায় মানুষ মর্মাহত হয়েছে। এজন্যই জানাজায় মানুষ তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সমবেত হয়েছে এবং চোখে চোখে পানি তুলে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, এই ভালোবাসার মধ্য দিয়ে জনগণ অন্তত একটি আশা নিয়ে এগোচ্ছে যে খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়ভার আরও সক্রিয়ভাবে পালন করা হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের স্বার্থে বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং জনগণ দলের নেতৃত্বকে সমর্থন করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী দর্শন অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তবে একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার পতাকা স্থাপন করেছিলেন, খালেদা জিয়া তা আরও উঁচুতে তুলে ধরেছিলেন। তারেক রহমানও সেই পতাকা হাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন এটাই মানুষের প্রত্যাশা।

মহাসচিবের মতে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আগামী নির্বাচনে দলের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং তার প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।

শেয়ার করুন