বিএনপির প্রতি মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না—সে বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে রয়েছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন এবং ভূষিত হয়েছেন।”
বেগম জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন। আর যারা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারা গয়েবানা জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কত মানুষ জানাজায় শরিক হয়েছে, তার কোনো সীমা রেখা নেই কিংবা নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যানও নেই। ভবিষ্যতে হয়তো অনুমাননির্ভর কোনো তথ্য দেওয়া যেতে পারে।”
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, “পৃথিবীর মানুষ বিশ্বাস করেছে—গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন, দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে নিজের জীবন, সন্তান ও পরিবার—সবকিছুই তিনি ত্যাগ করেছেন।”
তিনি বলেন, “দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বেগম জিয়ার যে টান, ভালোবাসা, ভক্তি এবং দেশপ্রেম—তার কোনো তুলনা নেই। তিনি সবকিছু হারিয়েছেন, কিন্তু যে উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেই উচ্চতায় পৃথিবীর বুকে খুব বেশি মানুষের নাম লেখা নেই।”
বেগম জিয়ার ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এটাই জাতির দাবি। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নন, নিজেকে গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের মানুষ তাকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছে। অন্যথায় তাকে হারানোর বেদনা কখনোই পূর্ণতা পাবে না।”
মানুষের প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, আমরা সত্যিকার অর্থে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো কি না—তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। মানুষের আশা ও প্রত্যাশা আসমানসম হয়ে গেছে। সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তব ভিত্তিতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে—সেটা নিয়েই আমার এই শঙ্কা।”
তিনি আরও বলেন, “তারপরও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সীমিত সামর্থ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব। কতটুকু পূরণ করা যাবে বা যাবে না, সেটা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে।”





