সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হসপিটালে কোমায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেমিয়ান মার্টিন

ছবি: সংগৃহীত

মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিসবেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন অস্ট্রেলিয়ার দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী ডেমিয়ান মার্টিন। সাবেক এই ক্রিকেটার কোমায় আছেন এবং এই মারাত্মক রোগকে ‘জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

৫৪ বছর বয়সী মার্টিন বক্সিং ডে-তে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর শরীরিক অবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা ইএসপিএনক্রিকইনফো নিশ্চিত করেছে। মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক ঝিল্লির তীব্র প্রদাহ, যা গুরুতর জটিলতা বা মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশা করা হচ্ছে আগামী কয়েক দিনে মার্টিন কোমা থেকে বের হতে পারেন।

ক্রিকেটের অন্যতম সেরা স্ট্রোকমেকার হিসেবে পরিচিত মার্টিন দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের জন্য সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭টি টেস্ট খেলেছেন। ২০০০ সালে ছয় বছরের বিরতির পর তিনি স্টিভ ওয়াহ-এর দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন। ২০০৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজের মাঝপথে তিনি অবসর নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪৬.৩৭ গড়ে ৪৪০৬ রান করেছেন, ১৩টি শতকও রয়েছে।

মার্টিন ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলেরও অংশ ছিলেন। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ভাঙা আঙুল নিয়ে ৮৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে ২৩৪ রানের জুটি গড়েন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোট ৫৩৪৬ রান এবং ৪০.৮০ গড়ে ৫টি শতক রয়েছে।

সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা সামাজিক মাধ্যমে মার্টিনকে সমর্থন জানিয়েছেন। সাবেক টেস্ট সতীর্থ ড্যারেন লেহমান লিখেছেন, ‘অনেক ভালোবাসা ও প্রার্থনা ডেমিয়ান মার্টিনের জন্য। দৃঢ় থাকো এবং লড়াই চালিয়ে যাও, কিংবদন্তি। পরিবারকে অনেক ভালোবাসা।’

মার্টিনের বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, ‘সে সেরা চিকিৎসা পাচ্ছে। আমান্ডা ও পরিবার জানে, অনেক মানুষ প্রার্থনা করছে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, ‘ডেমিয়ানের অসুস্থতার খবরে আমি মর্মাহত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেটবিশ্ব থেকে সকলের শুভকামনা তার সঙ্গে রয়েছে।’

ডারউইনে জন্মগ্রহণ করা মার্টিন ২১ বছর বয়সে তার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৯২–৯৩ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে ডিন জোনসের স্থলাভিষিক্ত হন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হন। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। ২০০৬–০৭ সালের অ্যাডিলেড ওভালে অ্যাশেজে শেষ টেস্ট খেলার পর তিনি ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন।

শেয়ার করুন