সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যে জীবন ইতিহাস হয়ে ওঠে

কবি – জেমস আব্দুর রহিম রানা
ছয় বছর বয়সে
তারেক রহমান জানতো না রাজনীতি,
জানতো শুধু—
মায়ের হাত শক্ত করে ধরতে হয়।
ঢাকার এক গৃহবন্দী ঘরে
বেগম খালেদা জিয়ার বুকের ভেতর
লুকিয়ে ছিলো সন্তান আর ভয়।
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস
মৃত্যু তখন দরজায় দাঁড়িয়ে
নিঃশব্দে হিসাব কষতো।
এগারো বছরে আবার বন্দিত্ব,
এবার বাবা-মায়ের সাথে।
সিপাহি জনতার তিন দিনের বিদ্রোহ,
তিন যুগের সমান আতঙ্ক।
প্রতিটি সকাল ছিলো প্রশ্ন—
আজ কি শেষ?
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
সন্তানদের চোখে তখন
ছিলেন শুধু সাহসের ছায়া।
পনেরোতে এসে
নেমে এলো অন্ধকার।
চলে গেলেন জিয়া—
রাষ্ট্রনায়ক, বাবা, আশ্রয়।
একটি কিশোর
হঠাৎ এতিম হয়ে বুঝে গেলো—
এই দেশে ক্ষমতার মূল্য
সবচেয়ে আগে দেয় পরিবার।
বিশ পেরোতেই
তারেক দেখলো
দুই ভাইকে রেখে
কীভাবে খালেদা জিয়া
রাজপথ আর কারাগারে
নিজেকে ভেঙে দেন,
মায়ের চোখে তখন
ক্লান্তি নয়—প্রতিজ্ঞা।
চল্লিশে এসে ইতিহাস আরও নিষ্ঠুর,
ভাই, মা—সবাই কারাগারে।
তারেকের মাজার হাড় ভাঙে,
ভাইকে ঠেলে দেওয়া হয়
ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে।
খালেদা জিয়া—
একাই বন্দি
ভুতুড়ে এক কারাগারে,
যেখানে একমাত্র কয়েদি
একজন মা।
লন্ডনে যায় তারেক রহমান,
মালয়েশিয়ায় ভাই।
একজন বাঁচে,
অন্যজন পারে না।
বড় ভাই—
যাকে পরিবারে ডাকা হতো বাবার নামে,
সে দূর থেকে দেখে
নিজের ছোট ভাইয়ের জানাজা।
মাটি ছোঁয়া হয় না,
শুধু বুকের ভেতর কিছু একটা চিরদিনের মতো ভেঙে যায়।
পঞ্চাশে এসে
দেখে খালেদা জিয়া
বৃদ্ধ, অসুস্থ, একাকী—
পরিত্যক্ত এক কারাগারে
মৃত্যুর সাথে লড়ছেন।
তারপর আসে আল্লাহর রহমত,
জুলাই আসে।
মা বের হন,
কিন্তু সন্তানের কাছে নয়।
শেষবারের মতো
মা-ছেলে একসাথে কিছুদিন,
তারপর বিদায়।
তারেকও ফেরেন দেশে—
কিন্তু সময় দেয় না বিধাতা।
এক সপ্তাহেই
চলে যান
মমতাময়ী মা
বেগম খালেদা জিয়া।
এখন আর কেউ নেই।
জিয়াউর রহমান নেই,
ছোট ভাই নেই,
মা নেই।
তবু তারেক রহমান দাঁড়িয়ে থাকেন—
একাকী, নীরব, অবিচল।
জীবন তাকে কী দিয়েছে?
যা দিয়েছে,
তারচেয়ে হাজার সহস্র গুণ
কেড়ে নিয়েছে।
তবু সে ভাঙেনি—
কারণ কিছু মানুষ
শুধু মানুষ নয়,
তারা সময়ের সাক্ষ্য,
তারা ইতিহাস।
শেয়ার করুন